লিকুইড সংকটের অজুহাতে নগরীতে এলপি গ্যাসের সরবরাহ কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে খুলনায় এলপি গ্যাসের বাজারে। যুদ্ধের কারণে গ্যাস তৈরির মূল উপকরণ দেশে আনতে পারছেন না বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে বোতলজাত এলপি গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে দোকানগুলোতে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে বলে আগাম খবর দিচ্ছেন বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্নস্থানে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা দোকানগুলোতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আবার সংকটের বিষয়টি আগে থেকে বুঝতে পেরে অনেক দোকানি কম দামে কিনে পরে চড়া দামে বিক্রির আশায় মজুত করে রাখছে।

নগরীর আহসান আহমেদ রোডের গ্যাস বিক্রেতা আনিস বলেন, অনেক কোম্পানি গ্যাস আমদানির জন্য এলসি করতে পারছেন না। এ কারণে খুলনার অনেক দোকানে গ্যাস নেই। সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। কবে নাগাদ শেষ হবে তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এ ব্যবসায়ী। সুযোগ বুঝে অনেক ব্যবসায়ী ১ হাজার ৫৮৫ টাকার গ্যাস ১ হাজার ৭০০ বা তার অধিক দরে বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, যমুনা, ওমেরা, পেট্রোলিয়াম, ফ্রেস, সেনা, নাভানা ও দুবাই বাংলা কোম্পানির গ্যাস গত এক সপ্তাহ ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বোতলজাত গ্যাসের সংকটের কারণে মঙ্গলবার দোকান খোলেননি।

আসাদ স্টোরের কর্মকর্তা হাসিবুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের লিকুইডবাহী জাহাজ আসছে না। সর্ব প্রথম আই গ্যাস থেকে শুরু করে অন্যান্য কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে সকালে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে ১০ সিলিন্ডার পাশের এক দোকান থেকে কিনে আনি। এর ১০ মিনিট পরে ফোন করে ওই ব্যবসায়ী হাসিবুজ্জামানকে জানান, এরপর থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে হবে। না হলে তার আর পোষাবে না। এ কথা জানার পর হাসিব ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে থাকেন।

স্যার ইকবাল রোডের আনাম এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাপ্পি গ্যাসের সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মাঝে বিভিন্ন আমলা ও মন্ত্রীরা হস্তক্ষেপ করছেন।

বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানির এজেন্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় ১০ শতাংশও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এজেন্ট বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে অনেক কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বাজারে তাদের কোনো সরবরাহ নেই। তবে সরকারের নির্ধারিত দামেই গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্যাস কোম্পানির একজন বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট প্রকট হচ্ছে। গ্যাস তৈরির লিকুইড নেই। বোতলজাত গ্যাস সংকটের আগে প্রতিদিন সাত’শ থেকে আট’শ বোতল গ্যাস বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন চাহিদা থাকলেও কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছেনা।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন কোম্পানি দেশে তাদের চাহিদা অনুযায়ী লিকুইড আনতে পারছেন না। তাছাড়া অনেক কোম্পানি গ্যাস আমদানির জন্য এলসি করতে পারছেন না। কোনো কোম্পানির কাছে গ্যাস তৈরি রশদ থাকে তা নেওয়ার জন্য অন্য কোম্পানি চাপ দিচ্ছে। ফলে সংকট থেকে যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দাম থেকে ৩৫ টাকা কমে ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি বিক্রি করছি। তবে সংকট কতদিন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন নি তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন